Templates by BIGtheme NET
shahid-minar35

বাঙালির আবেগ ভালোবাসা ও আত্মপরিচয়ে মিলেমিশে আছে একুশ

-: এম. এইচ. খান মাকসুদ :-

একুশে ফেব্রুয়ারি শুধু একটি দিন নয়, বাঙালির আবেগ, ভালোবাসা, আত্মপরিচয়ের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে যাওয়া এক প্রেরণার উৎস। আজ সেই মহান শহীদ দিবস। শহীদ মিনারে অমর সেই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছে আজ সবাই। ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানুষের ঢল। পুষ্পে পুষ্পে ভরে যাবে শহীদ মিনার।

আমরা শ্রদ্ধাবনতচিত্তে ভাষা আন্দোলনের জানা-অজানা সব শহীদকে স্মরণ করি।পৃথিবীর সব দেশে সবার কাছেই প্রিয় তাদের মাতৃভাষা। আমাদের মাতৃভাষা বাংলা। এই ভাষাকে নিয়ে আমরা গর্ব করি। ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠায় চরম মূল্য দিতে হয়েছে আমাদের। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতি মাতৃভাষার মর্যাদা ও অধিকার আদায়ে প্রাণ দিয়েছে। রচিত হয়েছে অভূতপূর্ব ইতিহাস।

বুকের রক্ত দিয়ে সালাম, সফিক, বরকত, জব্বার, রফিক যে ইতিহাস রচনা করেছেন, সেটিই হয়ে উঠেছে বাঙালির অধিকার আদায়ের, মাথা নত না করার চির প্রেরণা।

১৯৪৭ সালের দেশ ভাগের পর  বাঙালির প্রতি যে অন্যায় ও বৈষম্যমূলক আচরণ শুরু করেছিল পশ্চিম পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠি, ’৫২-র ভাষা আন্দোলন ছিল তারই একটি প্রবল প্রতিবাদ। শাসকের বুলেটও তা থামাতে পারেনি। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, পরবর্তীতে সামরিক স্বৈরাচার এবং শোষণ বঞ্চনা বিরোধী আন্দোলনের প্রতিটি পর্যায়ে বাঙালিকে শক্তি ও সাহস জুগিয়েছে একুশের চেতনা।

বাঙালি জাতীয়তাবোধের চেতনা থেকে উৎসারিত সে আন্দোলন ক্রমে রূপ নেয় স্বাধীনতার আন্দোলনে। আর নয় মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের  মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার রক্তিম সূর্য ছিনিয়ে আনে। বাঙালির ত্যাগের মহিমা স্বীকার করে, সেই ত্যাগের স্মৃতিকে অক্ষয় করে রাখার জন্য ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে।

তাই একুশে ফেব্রুয়ারি শুধু বাঙালির কাছেই স্মরণীয় নয়, সমস্ত বিশ্বে এদিনটি পালিত হয় যথাযথ মর্যাদাসহকারে। সারা বিশ্বই আজ এই দিবসটি পালন করবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে। স্মরণ করবে, শ্রদ্ধা জানাবে বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি। অভিধানসহ সম্ভাব্য সব উপকরণ সহজলভ্য করার মাধ্যমে ভাষাচর্চার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। অকারণে বিদেশি ভাষা ব্যবহারের অপচেষ্টাকে নিরুৎসাহিত করতে হবে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, মানুষ মাতৃভাষা ছাড়া অন্যকোনো ভাষা শিখবে না বা চর্চা করবে না।

বিশ্বায়নের এই যুগে এমনটি চিন্তা করা যায় না। প্রয়োজন অনুযায়ী, অন্যান্য ভাষাও শিখতে হবে। তবে মাতৃভাষার সুরক্ষা, বিকাশ এবং এর অবাধ অনুশীলনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তা না হলে জাতি হিসেবে ক্রমে আমরা চিছিয়ে পড়ব। তাই একুশে ফেব্রুয়ারির যে চেতনা আমাদের পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙতে সাহায্য করেছে, সেই দিনটিকে কেবল আনুষ্ঠানিক নয়, প্রজন্মান্তরে বুকে ধারণ করতে হবে।

বাঙালি জাতির নিজস্ব ভূখণ্ড শুধু নয়, স্বাধীন বাংলাদেশ আজ শিক্ষা, সমাজ, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির নানা শাখা-প্রশাখায় এগিয়ে চলেছে। আমরা বিশ্বাস করি, এই এগিয়ে চলা অব্যাহত থাকবে এবং বিশ্বসভায় একদিন বাঙালি জাতি গৌরবের আসনে অধিষ্ঠিত হবে।

পরিভাষা, পৃথিবীতে মাতৃভাষার সম্মান রক্ষার জন্য আত্মাহুতি দেওয়ার ঘটনা বিরল। এ জন্য জাতি হিসেবে আমরা গর্বিত। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, মাতৃভাষার চর্চা ও বিকাশের ক্ষেত্রে আমরা এখনো অনেক পিছিয়ে আছি, যা ভাষা আন্দোলনের চেতনার বিপরীত। তবে আদেশ-নির্দেশ দিয়ে সেটি করা সম্ভব বলে বিজ্ঞজনেরা মনে করেন না। এ জন্য  ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেককে উপলব্ধি করতে হবে।

_ লেখক : সাংবাদিক, কলামিষ্ট ও বিশ্লেষক।

বিএনএস//০০২-০০৭.

Print Friendly
Please share this content >>>Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterPin on PinterestDigg thisShare on LinkedIn

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful